বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন

বিএসএফকে ২৭ কিমি জমি দিলেন শুভেন্দু: অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি

কলকাতা প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ভারত-বাংলাদেশ অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) প্রাথমিকভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। বুধবার রাজ্য সরকারের সচিবালয় ‘নবান্ন’-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর, ১১ মে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্বে ছিলেন রাজ্যের ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিব।

সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আজকের দিনটি অত্যন্ত অর্থবহ। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিএসএফ এই জমি চেয়ে আসলেও আগের সরকার সহযোগিতা করেনি, যা রাজ্য ও দেশের সুরক্ষাকে বড় সংকটে ফেলেছিল। সেই অচলাবস্থা ভেঙে আমরা আজ ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিলাম।”

সীমান্তের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অংশেই রয়েছে ২২০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৬০০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এখনো অরক্ষিত। আর ৫৫৫ কিলোমিটার সীমান্ত এমন ছিল যেখানে চাইলেই আগের সরকার জমি দিতে পারত, কিন্তু তারা দেয়নি। কোনো সীমান্ত সমন্বয় বৈঠকও করা হয়নি। এখন থেকে নিয়মিত এই সমন্বয় বৈঠক হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বিএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) প্রবীণ কুমার বলেন, “খুব দ্রুতই এই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও নতুন সীমান্ত চৌকি (বিশেষ করে সুন্দরবন জেলায়) স্থাপন করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এটি অত্যন্ত জরুরি। আমরা ইতিমধ্যে চোরাকারবারিদের একটি তালিকা রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিয়েছি, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে সীমান্ত আরও সুরক্ষিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর বার্তা ও সিএএ কার্যকর
সংবাদ সম্মেলনে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বিএসএফ-এর সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে রাজ্য ও দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ভারত সরকার কর্তৃক ২০২৫ সালের ১৪ মে পাঠানো একটি নির্দেশিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ ছিল সেখানে, যা আগের সরকার কার্যকর করেনি। উপরন্তু তারা শরণার্থীদের সুরক্ষাদাতা আইন সিএএ (CAA)-র বিরোধিতা করেছিল।

আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) অনুযায়ী নির্দিষ্ট সাতটি সম্প্রদায়ের মানুষ এই আইনের আওতাভুক্ত। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা এই রাজ্যে এসেছেন, পুলিশ তাদের কোনো হেনস্থা করবে না। কিন্তু যারা এই সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত নন, তারা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য হবেন। রাজ্য পুলিশ তাদের আটক ও গ্রেপ্তার করে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) সাথে কথা বলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। অর্থাৎ, সরকার এখন থেকে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার) নীতিতে চলবে। রাজ্যের স্বার্থে আজ থেকেই এই আইন কার্যকর করতে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও মুখ্য সচিবকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com